অভ্যর্থনা জানাতে ঢল নামবে লাখো মানুষের

জাতীয় রাজনীতি শিরোনাম

খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন মংগলবার এক হাতে জাতীয় পতাকা ও অন্য হাতে থাকবে দলীয় পতাকা

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে দেশের মানুষের অধিকার আদায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ভূষিত হয়েছেন আপোষহীন নেত্রীতে। অর্জন করেছেন দেশপ্রেমিক গণমানুষের ভালোবাসা, পরিণত হয়েছেন সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীতে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের জন্য সাড়ে চার দশকের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ-তীতিক্ষার জন্য এখন তিনি আর কেবল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেত্রী নন, তিনি দেশ ও জাতির মূল্যবান সম্পদ। তার জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো তিনি যেদিকে যান সেদিকেই ছুটে চলে লাখ লাখ মানুষ। আবাল-বৃদ্ধি-বণিতা, তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, সবার চোখ জুড়িয়ে যায় তাকে এক পলক দেখতে পেয়েই। সেই মহিয়সী নারী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার মাস যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরছেন মংগলবার। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আসছেন তার দুই পূত্রবধূ- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী সৈয়দা শামিলা রহমান। বিমান বন্দর থেকে গাড়িতে করে ৮ নং গেইট দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গুলশানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বিমান বন্দর মোড় থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে তাদের নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর এবং অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম শামস বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তাসহ অভ্যর্থনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করছেন। চার মাস লন্ডনে চিকিতসাধীন থাকার পর সোমবার সন্ধ্যায় হিথরো বিমান বন্দর ছাড়ছেন খালেদা জিয়া। বিমান বন্দরে মাকে বিদায় জানাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রথমে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও গতকাল শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, কাতারের আমিরের রয়্যাল এয়ার এম্বুলেন্সেই তিনি ঢাকায় ফিরছেন। তবে গতকাল রাতে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ঢাকায় অবতরণের সময় চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিমানবন্দরে দেশের মানুষের প্রিয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা পর্যন্ত পুরো পথে নেতাকর্মীদের এক হাতে থাকবে জাতীয় পতাকা এবং আরেক হাতে থাকবে দলীয় পতাকা। পুরো পথে পতাকা নেড়ে দেশনেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন তারা। বেগম জিয়ার ফেরার দিনে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য, দেশের মানুষের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তিনি দেশের মানুষের কাছে প্রাণপ্রিয় নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ আছে, আমাদের মধ্যেও আবেগ কাজ করছে। তিনি দীর্ঘদিন পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষ অত্যন্ত উৎসাহিত-উজ্জীবিত, তাদের প্রিয় নেত্রী দেশে ফিরে আসবেন এবং তাকে যথাযথ অভ্যর্থনা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধু বিএনপি নয়, সারাদেশের মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছে।
তিনি জানান, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে যাতে বেগম খালেদা জিয়া সকলে অভ্যর্থনা জানাতে পারে সে জন্য বিএনপি বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাস্তায় যাতে কোন ধরণের যানজট সৃষ্টি না হয় এজন্য রাস্তার দুইপাশে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সকলকে অভ্যর্থনা জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রত্যাশা করছেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার আগে থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ মানুষের ঢল নামবে। সকলেই প্রিয় নেত্রীকে এক পলক দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া কেবল ঢাকা কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও যাতে উপস্থিত থাকে সে জন্য সকল সংগঠনই কাজ করছে। এলক্ষ্যে গতকাল গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিল দলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে বেগম জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে আজ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো পৃথকভাবে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড নিয়ে সভা করবেন।
বর্ধিত সভা সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিনে প্রতিটি সংগঠন পৃথকভাবে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত অবস্থান গ্রহণ করবেন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে লা মেরিডিয়ান হোটেল পর্যন্ত অবস্থান নেবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীরা। লা মেরিডিয়ান থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত ছাত্রদল, খিলক্ষেত থেকে রেডিসন পর্যন্ত যুবদল, রেডিসন থেকে আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবক দল, সেখান থেকে গুলশান পর্যন্ত মহিলা দল ও অন্যান্য সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগনগুলোর নেতাকর্মীরা অবস্থান গ্রহণ করবেন।
যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে। ওই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলেরই প্রায় ৭০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ম্যাডামকে পতাকা নেড়ে অভ্যর্থনা জানবেন। তিনি জানান, নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সেদিন লাখো মানুষের ঢল নামবে প্রিয় নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে। তাই সকলে যাতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, সারাদেশের মানুষের প্রাণের নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার মাস পর দেশে ফিরছেন। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করছি সেদিন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশান পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে।
গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন ছিলেন।###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *