জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিং সেবা প্রদানের পরিকল্পনা
গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মনোসামাজিক সহায়তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউনেস্কোর সহায়তায় প্রাথমিকভাবে দেশের ২২টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে এই সেবার আওতায় আনা হবে।
প্রকল্পের মূল তথ্য
- সেবার ধরন: মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও ট্রমা থেরাপি
- লক্ষ্যগ্রুপ: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সরাসরি জড়িত/ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী
- বাস্তবায়নকারী: ইউজিসি ও ইউনেস্কো যৌথভাবে
- সময়সীমা: আগামী মাস থেকে কার্যক্রম শুরু
- পরবর্তী পদক্ষেপ: বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত পরিকল্পনা সভা
কেন এই উদ্যোগ?
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকালীন সময়ে:
- সহপাঠীদের মৃত্যু/আঘাতের প্রত্যক্ষদর্শী অনেক শিক্ষার্থী
- কিছু ক্ষেত্রে অঙ্গহানির শিকার হওয়ার ঘটনা
- অনেকে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (PTSD) ভুগছেন
- ট্রমাজনিত কারণে ক্লাস-পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি
বাস্তবায়ন কৌশল
প্রকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জানান:
- অগ্রাধিকার ভিত্তি: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ আন্দোলনকেন্দ্রিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক ফোকাস
- মডিউল উন্নয়ন: বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ট্রমা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রস্তুত
- পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণ: প্রথম ধাপে ১০ হাজার, পরে আরও শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মেখলা সরকার বলেন, “যারা সহিংসতার সরাসরি শিকার হয়েছেন, তাদের ৬০% ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সময়মতো কাউন্সেলিং না পেলে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নেয়।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “রাতে ঘুমের মধ্যে এখনও গুলির শব্দ শুনি। ক্লাসে বসে থাকতে পারি না। এই উদ্যোগ আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”
#মানসিকস্বাস্থ্য #ইউজিসি #জুলাইঅভ্যুত্থান #শিক্ষার্থী_সেবা #খবর৫২
সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে শেয়ার করুন
