ছেলেকে লুকিয়ে অপহরণ মামলা, ৯ বছর পর যেভাবে উদ্ধার

বরিশাল : নিজের ছেলেকে আত্মগোপনে রেখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ ঘটনার ৯ বছর পর আত্মগোপনে রাখা রাসেল মৃধাকে উদ্ধার করেছেন মামলার বিবাদীরা। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকা থেকে রাসেলকে উদ্ধার করে আজ মঙ্গলবার সকালে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মিথ্যা অপহরণ মামলায় জেলখাটা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসুদেবপাড়া গ্রামের নোয়াব আলী মৃধার ছেলে এস রহমান মৃধা জানান, পাশের নলচিড়া ইউনিয়নের কলাবাড়িয়া গ্রামের জালাল মৃধার সঙ্গে তার (এস রহমান) পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এ কারণে জালাল মৃধা তাকে (এস রহমান) এবং তার পক্ষের লোকজনকে ফাঁসাতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিথ্যে মামলা দায়ের করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাকে (এস রহমান মৃধা) এবং তার ছেলে আরমান মৃধা, রায়হান মৃধা, স্থানীয় শাহজাহান মল্লিক, শাহিন মল্লিক, আব্দুল হক ভূঁইয়াসহ ১৪ জনকে আসামি করে অপহরণের অভিযোগ করেন জালাল মৃধার স্ত্রী মোসা. মরিয়ম। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে জালাল-মরিয়ম দম্পত্তির সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে রাসেল মৃধাকে (১৪) মারধর করে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। আদালত এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটি কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতঘুরে সর্বশেষ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গৌরনদীর সরিকল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফোরকান হাওলাদার। এস রহমান আরও জানান, মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ফোরকান হাওলাদার বাদীর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে দায়সারা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। ফলে মিথ্যে ওই মামলায় তাকে (এস রহমান) এবং তার পক্ষের লোকজনকে জেল খাটতে হয়েছে।

এস রহমান বলেন, ‘নয় বছর পর গতকাল সোমবার জানতে পারি মামলার বাদী মরিয়মের ছেলে রাসেল ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে থেকে রাসেলকে উদ্ধার করে আজ মঙ্গলবার সকালে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

এ বিষয়ে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আ. রব হাওলাদার জানান, রাসেল মৃধা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন