আফগানিস্তান: কাবুল থেকে তালেবান মাত্র ৩০ মাইল দূরে

কান্দাহারে তালেবান যোদ্ধাদের টহল

কাবুলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকা তালেবান এখন উত্তর আফগানিস্তানের অধিকাংশ এবং আঞ্চলিক রাজধানীগুলোর অর্ধেকই দখল করে নিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে বলা হয়, তালেবান যোদ্ধারা এখন কাবুল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরে রয়েছে। কিছু খবরে অবশ্য তালেবান কাবুলের আরো কাছে চলে এসেছে বলে জানানো হচ্ছে।

গতকাল তালেবান লোঘার প্রদেশের রাজধানী পুল-ই-আলম দখল করেছিল যা কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল দূরে। এর পর আজ কাবুল থেকে ৪০ কিলোমিটার বা ২৫ মাইল দূরের মায়দান শার নামে আরেকটি প্রাদেশিক রাজধানীতে তীব্র লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে একজন স্থানীয় এমপির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, কাবুলের মাত্র ৭ মাইল বা ১১ কিলোমিটার দূরে চার আসিয়াব জেলায় পৌঁছে গেছে তালেবান।

কান্দাহারে তালেবানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা

মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের সবশেষ মূল্যায়নে বলছে, তালেবান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কাবুলের দিকে এগুনোর চেষ্টা করতে পারে। কাবুল প্রদেশের কাছাকাছি এলাকায় তালেবান অবস্থানগুলোতে মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি বিমান হামলাও চালিয়েছে।

সবশেষ খবরে বলা হয়, কান্দাহারের বিমানবন্দরে তালেবানের অবস্থানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক বিলিল সারওয়ারি নিরাপত্তা সূত্র এবং স্থানীয় হাসপাতালের একজন ডাক্তারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, এ হামলায় “বহু তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।”এ খবরের ব্যাপারে তালেবানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হেলমান্দ শহরে তালেবান যোদ্ধারা
ছবির ক্যাপশান, হেলমান্দ শহরে তালেবান যোদ্ধারা

আরো দুটি আঞ্চলিক রাজধানী তালেবানের দখলে

শনিবার সকালে তালেবানের হাতে পাকতিকা প্রদেশের রাজধানী শারানের পতন হয়েছে বলে আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান নিশ্চিত করেছেন।

একই দিনে কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদও তালেবান দখল করেছে বলে স্থানীয় একজনএমপি বিবিসিকে জানিয়েছেন।

এখানে লোকজন তালেবানের পতাকা হাতে রাস্থায় হাঁটছে বলে টুইটারে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, যার সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সবশেষ খবরে মাজার-ই-শরিফ এলাকায় আবদুর রশিদ দোস্তামের মিলিশিয়া বাহিনীর সাথে তালেবানের প্রবল লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর আফগানিস্তানে মাজারই শরিফই একমাত্র প্রধান শহর যেটি এখনো সরকারি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এর মধ্যে কাতার – যে দেশটি মার্কিন-তালেবান শান্তি আলোচনার স্বাগতিক দেশ ছিল – তারা তালেবানের প্রতি তাদের অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

তালেবানের বার্তা: “পরিস্থিতি স্বাভাবিক”

সামাজিক মাধ্যমে ও তালেবানের কর্মকর্তাদের দিক থেকে যেসব বার্তা পাওয়া যাচ্ছে – তাতে তালেবানের দখলে চলে যাওয়া এলাকাগুলোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানানো হচ্ছে।

এসব বার্তায় সাধারণত বলা হয় যে, নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে তাদের কোন ক্ষতি করা হবে না, এবং তারা সব জাতিসত্তার মানুষের জন্যই কাজ করছে।

বিবিসি মনিটরিং জানাচ্ছে – এসব বার্তার একটা লক্ষ্য হলো, সরকারি বাহিনীর সেনাদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করা এবং “তালেবান বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে”, বা “মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে যোদ্ধাদের সাথে বিয়ে দেয়া হচ্ছে” -এসব খবরকে ভুল বলে দেখানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

এই প্রতিবেদন শেয়ার করুন