ওয়াশিংটন, ১০ অক্টোবর- নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিন দিন হাসপাতালে কাটিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরলেও তার চিকিৎসা নিয়ে যথেষ্ট কৌতূহলী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা।

সেই কৌতূহল মেটাতে যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ান হিসাব কষে দেখেছে, ট্রাম্প যে চিকিৎসা নিয়েছেন, তার খরচা ১০ লাখ ডলারের কম হবে না।

বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে ট্রাম্পের তিন দিন হাসপাতালবাসে সাড়ে ৮ কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে।

ট্রাম্পের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে যাওয়া-আসা, রোগ নিরূপণে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিভিন্ন ওষুধসহ তার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জামের দাম ধরে এই খরচের হিসাব হয়েছে।

“এই খরচ ১০ লাখ ডলারে বেশি হলেও আমি অবাক হব না,” গার্ডিয়ানকে বলেছেন সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের অধ্যাপক ব্রুস ওয়াই লি।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞই ট্রাম্পের হাসপাতাল খরচের একটা হিসাব বের করেছেন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২ অক্টোবর ট্রাম্প ওয়ালটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। তিন রাত কাটিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন।

 

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের রয়েছে সেরা চিকিৎসা সরঞ্জাম, আমাদের রয়েছে সেরা ওষুধ।”

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের করোনাভাইরাস নিয়ে ভয় না পাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি, যদিও তিনি এড়িয়ে যান যে এই মহামারীতে ইতোমধ্যে দেশটির ২ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে।

গার্ডিয়ান লিখেছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের যে কারও হাসপাতালে ভর্তি হলে রোগ ছাপিয়ে চিকিৎসা খরচের বিষয়টি তার ভাবনায় আসে, এক্ষেত্রে দেশটিতে একমাত্র ব্যতিক্রম ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট যে বলেছেন, তাদেরই রয়েছে সেরা ওষুধ আর চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেগুলো পেতে হলে কী পরিমাণ খরচা পড়ে, তা জানতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে।

কমনওয়েলথ ফান্ডের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা কলিন্স গার্ডিয়ানকে বলেন, “হাসপাতালে যাওয়া আর বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়া একটা দুঃস্বপ্নের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।”

স্বাস্থ্যসেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে থাকে, যদিও দেশটির খুব নাগরিকই জানেন তারা যে চিকিৎসাটা পাচ্ছেন, তার অর্থমূল্য আসলে কত?

বেসরকারি ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর মাধ্যমেই চিকিৎসার ব্যয়টা দেন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ।

ট্রাম্পের অবশ্য ‘অসাধারণ’ সরকারি ইন্সুরেন্স রয়েছে, আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে চিকিৎসার জন্য নিজের কোনো খরচই করতে হয় না এই ধনকুবেরের।