সুলতান আহমেদ, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় পুকুর থেকে বিমল চদ্র সরকার (৭০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ছোট মুল্লকপুর গ্রাম থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযাগ, পুকুর নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রঞ্জন কুমার সরকার প্রতিপক্ষ আলিম উদ্দিন ও চন্দন কুমার প্রামানিকসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট মুল্লুকপুর গ্রামের একটি সরকারি পুকুর লিজ নিয়ে রঞ্জন কুমার সরকার গত ১০বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি পুকুরটির লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের আলিম উদ্দিনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ৮সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ থেকে ফেরার পথে উপজেলার জয়বাংলা মোড় এলাকায় রঞ্জন কুমারকে প্রতিপক্ষ আলিম উদ্দিন, চন্দন কুমার ও মতিউর রহমান মারধর করেন। এ ঘটনায় পরদিন রঞ্জনের স্ত্রী ডলি রাণী মামলা করেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিরোধপূর্ণ ওই পুকুরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দিয়ে আলিম উদ্দিনের লোকজন দখল করে নেয়। বুধবার বিকেলে আলিম উদ্দিন লোকজন নিয়ে ওই পুকুর থেকে মাছ ধরতে এলে রঞ্জনের লোকজন তাদেরকে ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান। প্রতিপক্ষের লোকজন চলে যাওয়ার পর পুকুর পাহারা দেওয়ার জন্য পুকুর পাড়ে অবস্থান নেন। কিন্তু রাত হয়ে গেলে বিমল চন্দ্র বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তার খোঁজ করতে শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বিবাদমান পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের মরদেহ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মামলার বাদি রঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ‘সরকারি ওই পুকুরটি আমি গত ১০ বছর ধরে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। গত ৮সেপ্টেম্বর পুকুরটির লিজ নবায়নের জন্য উপজেলা ভূমি অফিস আবদেন করি। বিকেল উপজেলা সদর থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজলার জয়বাংলা মোড়ের একই এলাকার আলিম উদ্দিন ও চন্দন কুমার প্রামানিকসহ কয়েকজন পথরোধ করে ওই জমি আমাকে ছেড়ে দিতে বলে। রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে মারপিট করে। এর আগেও আলিম উদ্দিন জোর করে ওই পুকুরের মাছ মেরে নিয়ে গেছে। গতকাল পুকুরের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তারা আমার বাবাকে হত্যা করে।’
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুর রহমান সরকার জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে এটা হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রঞ্জন সরকার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।#