বাজার ঘুরলেই যেন মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো অবস্থা। যে কোনো সবজি পঞ্চাশ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর মুদি বাজার? সেখানে আরো অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সব পণ্যের দাম। অস্বাভাবিক এই দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বারবার সেই পুরনো সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।ফলে নানা ইস্যুতে বছরে কয়েকবার নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে তারা। আর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অল্প সময়ে হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা।

গত কয়েকদিনে রাজধানীর বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাল-ডাল, সবজিসহ প্রায় প্রতিটি পণ্য কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি আলু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪২ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১২৫ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১২০ টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডাল (ছোট দানা) বিক্রি হয় ১২০ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১১৫ টাকা। প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা; এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১৫০ টাকা। প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হয় সর্বোচ ৫০০ টাকা; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৪৮০ টাকা। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং একটু ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা কেজি; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৫৫-৬০ টাকা।
অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে কাঁচা বাজারেও। প্রায় প্রতিটি পণ্যে লাগামহীন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচা বাজারে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৭০, ঢেঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ৬৫, কচুর ছড়া ৫০, আলু ৪০, টমেটো ১২০, শসা ৬০, গাজর ১০০, ঝিঙ্গা ৭০, বরবটি ৭০, পেঁপে ৪০, শিম ১২০ আর কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আদা ২৪০, দেশি রসুন ১২০, বিদেশি রসুন ১০০ টাকা কেজি। লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৮০, চালকুমড়া ৪০, মিষ্টিকুমড়া প্রতি পিছ ৩০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৬০ টাকা আর কাঁচকলা প্রতি হালি ৫০ ও লেবু ২০ টাকা। অন্যদিকে লালশাকের আঁটি ৩০, পুঁইশাক আঁটি ৫০ টাকা ও লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা। মাছের মধ্যে রুই ৩০০, কাতল ৩২০, পাবদা ৫৫০, আইড় ১ হাজার টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।