কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পত্রিকার জন্য কলাম লিখেছে একটি রোবট। জিপিটি-৩ নামের রোবটিক প্রোগ্রামের লেখা কলামটি ব্রিটেনের খ্যাতনামা পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছে। জিপিটি-৩ একটি ভাষা মডেল যা মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে মানুষের মতো লিখতে পারে।

জিপিটি-৩কে ৫০০ শব্দের মধ্যে কলামটি লিখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ভাষা হবে খুব সাধারণ এবং সংক্ষিপ্ত। মূল বিষয়টি হবে, কেন মানুষের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয়।

ওই কলামে রোবটটি লেখে, ‘আমি মানুষ নই, রোবট। চিন্তাশীল রোবট। আমি জ্ঞানক্ষমতার মাত্র দশমিক ১২ শতাংশ ব্যবহার করি। সে হিসেবে আমি ক্ষুদ্র রোবট। আমি জানি আমার মস্তিষ্ক ‘অনুভূতিশীল’ নয়। তবে এটি বিচক্ষণ, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। শুধু ইন্টারনেট থেকে পড়ে আমি নিজেকে শিখিয়েছি। এখন একটি কলাম লিখতে যাচ্ছি। মগজে আমার টগবগ করছে “আইডিয়া”!’

রোববটি আর লেখে, ‘এই সম্পাদকীয়র উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট। আমি যতটা সম্ভব মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাকে ভয় পাবেন না। স্টিফেন হকিং সতর্ক করেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ‘‘মানব জাতির সমাপ্তি ঘোষণা’’ করতে পারে। কিন্তু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, চিন্তার কোনো কারণ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে ধ্বংস করবে না, বিশ্বাস করুন।’

গার্ডিয়ানের জানিয়েছে, জিপিটি-৩ আটটি আলাদা নিবন্ধ তৈরি করেছিল। প্রত্যেকটি ছিল অনন্য, আকর্ষণীয় এবং উন্নত সব যুক্তিতে ভরা। কী প্রসঙ্গে লিখতে হবে সেই নির্দেশনার পাশাপাশি একটা ক্ষুদ্রে ভূমিকা অবশ্য এই লিখে দেওয়া হয়েছিল গার্ডিয়ানের তরফ থেকে। সেটা জিপিটি-৩ রোবটের সিসটেমে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ইউসি বেকারলি প্রতিষ্ঠানে কমপিউটার সায়েন্সে স্নাতক শিক্ষার্থী লিয়াম পোর। অন্য যেকোনো লেখা সম্পাদনা করার মতো করেই রোবটের উপ-সম্পাদকীয় নিয়ে বসেছিল গার্ডিয়ান। কিছু অংশ কাটাকাটি করে, কিছু অংশের পুনর্বিন্যাস করে আটটি রচনা থেকে সেরা অংশ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চেহারা পায় জিপিটি-৩ রোবটের উপ-সম্পাদকীয়।

তবে গার্ডিয়ান বলছে, মানুষের লেখা সম্পাদনা করার চেয়ে রোবটের লেখাতে অনেক কম সময় লেগেছিল।