স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওয়াহেদ আলী জয়

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জাকিয়া সুলতানা সুমি (১৬) নামে এক কিশোরী বধূকে দিনভর নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের নিজকুলিহার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ওয়াহেদ আলী জয়কে (২২) গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আটক ওয়াহেদ আলী জয় নিজকুলিহার গ্রামের ইমরান হোসেন বাবুর ছেলে। নিহত জাকিয়া সুলতানা সুমি একই উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। এদিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, প্রেমের সম্পর্ক ধরে প্রায় চার মাস আগে সুমি আক্তারের সঙ্গে জয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই ছিল। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা যৌতুক দাবিতে সুমির ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন। এরই জের ধরে গতকাল দিনভর নববধূর ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

নিহত সুমির বাবা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, জামাই ওয়াহেদ আলী জয় মোবাইলফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়ে জাকিয়া সুলতানা সুমিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই জয়সহ পরিবারের লোকজন দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে তার ওপর নির্যাতন করে আসছিল। এরই জের ধরে মেয়ে সুমিকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ জানালার গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

মান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তারেকুর রহমান সরকার বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে স্বামীর বাড়ির শয়নকক্ষের জানালার গ্রিলে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সুমির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুমির মুখ ও গলা দিয়ে রক্ত বের হওয়ায় নিহতের বাবা-মায়ের দাবি তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে হত্যার এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলেই এর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনায় নিহতের মা আসমা খাতুন বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ওয়াহেদ আলী জয়কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’