১১/১১/২০১৯ ইং তারিখে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে কমিটিতে সভাপতি পদ দেওয়া হয় আতিকুর রহমানকে। সভাপতি হিসেবে যে আতিকুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে তার বয়স ৩১ বছর ২ মাস, ছাত্রত্ব নেই এবং একজন বেকারীর কর্মচারী বলে জানা যায়। এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে ০২ দিন পর ১৩/১১/২০১৯ ইং তারিখে তিন (০৩) সদস্য বিশিষ্ট ০৭ দিনের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও ০৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাবেক ১নং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ লিংকন ৬ষ্ঠ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে “যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ কেন অবৈধ নয়” এই মর্মে স্বত্ব ঘোষণার দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং ৫৭/২০২০।

গত ০৫ মার্চ বৃহস্পতিবার আদালত যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমানকে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবেনা এই মর্মে রুল জারি করেছে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহেমদকে ০৭ কর্মদিবস এর মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।

আদালতের শুনানির তারিখ ২ রা এপ্রিল ২০২০ ইং তারিখে ধার্য করা হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ২৬ মার্চ সকল অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যায়।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এর তথাকথিত তদন্ত ও আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশ উপেক্ষা করে আতিকুর রহমান যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের কার্যক্রম অব্যাহত করছে। উক্ত রিটের শুনানি এবং সভাপতি পদের বৈধতার রায়ের তারিখ আগামী ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রোজ বুধবার ধার্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদীর ফয়সাল আহমেদ লিংকন এর সাথে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আদালতের রায় অবশ্যই ন্যায় সঙ্গত হবে । যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতির ছাত্রত্ব নেই এবং সে একজন বেকারির কর্মচারী। তবুও তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠনের দু’দিন পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে চার মাস অতিবাহিত হলেও গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো কোন প্রতিবেদন দাখিল করেনি। সেজন্য আদালতে মামলা করি।এ মামলার বিপরীতে আমাকে ফাসাঁনোর উদ্দেশ্যে একটি ২ সেকেন্ডের এডিট করা ভিডিও আতিকের সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করে । আমি যদি তদন্ত ছাড়াই ছাত্রলীগের নীতি ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজের শাস্তি পেয়ে থাকি তবে আতিকুর রহমান ও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী নেতা। তিনি যদি শুনানি বা রায়ের আগে যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের কোন দালিলিক কার্যক্রম করে থাকে অথবা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চালায় তাহলে আদালত ২৩ তারিখ তাকে অবৈধ বলে ঘোষণা করবে এবং তবে তার সকল কার্যক্রম ও অবৈধ বলে গণ্য হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমানকে দেওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।