প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ ও শাকিব খান। পুরোনো ছবি

সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক নাম সালমান শাহ। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অগণিত ভক্ত-দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে খ্যাতির চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। মাত্র চার বছরেই বাংলা চলচ্চিত্রে নির্ভরযোগ্য নামে পরিণত হয়েছিলেন প্রয়াত সালমান ভাই। তিনি ছিলেন ভীষণ কাজ পাগল মানুষ। ভালো কাজের বিকল্প কিছু নেই এ কথা তার চেয়ে আর বেশি কে জানতো!

মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে তার সিনেমার সংখ্যার দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষের চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি। তাকে থামিয়ে দিতে বহু অপচেষ্টা হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো তার সাক্ষী। তার মতো সর্বপ্রিয় মানুষটিকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল! তবু থেমে যাননি সালমান ভাই। অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন।

হয়তো সেজন্য মৃত্যুর চব্বিশ বছর পরেও তার জন্য মানুষ চোখের পানি ফেলেন। চলচ্চিত্রের একজন সিনিয়র অভিনেতার প্রতি মানুষের ভালোবাসার এই নিদর্শন আমাকেও ছুঁয়ে যায়। উদ্বেলিত করে। সাহস ও শক্তি জোগায়। বোধ করি, আমার মতো ইন্ডাস্ট্রির সব শিল্পী সেই ভালোবাসার স্পর্শ পান।

আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা উপলব্ধি করি- সালমান ভাইয়ের মতো নিখুঁত, সাবলীল একজন স্টাইল আইকন তখন খুব দরকার ছিল। অন্তত পশ্চিমা আইকনিজমের কাউন্টার দেওয়ার জন্য। তৎকালীন সালমান শাহ সেটা হয়েও উঠছিলেন। তাকে দেখে কত তরুণ যে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী হয়েছে সেটা আর নাই বা বললাম।

সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা আমাদের এ পূর্বসুরি অভিনেতার মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানাই। যুগের পর যুগ তিনি আমাদের স্বপ্নের নায়ক হয়েই থাকবেন। প্রিয় সালমান ভাই, যেখানেই থাকুন আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।