বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সৌদি সরকারের প্রতিনিধিরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটিতে কর্মরত শ্রমিকসহ অন্য পেশাজীবিরা ভিসায় উল্লেখিত পেশার বাইরে কোনো কাজ করতে পারবে না। বিশেষ করে রাজনীতি, পেশাজীবি বা অরাজনৈতিক সংগঠন করতে পারবে না। শ্রম ভিসায় গিয়ে অনেকে সাংবাদিকতা অর্থাৎ বাংলাদেশে খবর পাঠান এমন অভিযোগের প্রমাণ হাজির করে সৌদি পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এক বাক্যে বলেছেন, প্রেস ভিসা ছাড়া অন্য কেউ সৌদিতে সাংবাদিকতা করতে পারবে না। সৌদি আইনে উপরুল্লিখিত ৩টি বিষয়ে অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ জানিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিনিধিদের এই বলে সতর্ক করা হয় যে বাংলাদেশ মিশনের কেউ যাতে এসব কর্মে কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় বা সমর্থন কিংবা অনুমোদন না দেয়। নোটিশ বা দৃষ্টি আকর্ষণের পরও যদি কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব কর্মে সম্পৃক্ত রয়েছে মর্মে প্রমাণ মিলে তবে, অবশ্যই তাকে জেল-জরিমানাসহ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি সরকারের কড়া অবস্থানের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নজরে আনতে সতর্কতা সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরব প্রবাসী সকল বাংলাদেশি অভিবাসীদের জানানো যাচ্ছে যে, কতিপয় অভিবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সৌদি আরবে বিভিন্ন নামে বাংলাদেশ ভিত্তিক রাজনৈতিক, অরাজনৈতিকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে।এরুপ অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের কঠোর মনোভাবের বিষয়টি অবহিত করতে গত ২৬ শে জুলাই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত তামিম বিন মাজেদ আল দোসারির নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য নিরাপত্তা এজেন্সির প্রতিনিধিদলের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমন্ত্রণ জানায়। এ বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ কমিউনিটির কিছু সদস্য তাদের ইকামায় বর্ণিত পেশার বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক বা এ ধরণের অন্যান্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিজ্ঞপ্তি মতে, এ পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে উপমন্ত্রী সতর্ক করেন, সৌদি আরবে যে সকল বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন তার বাইরে এখানে কোনপ্রকার রাজনৈতিক, সামাজিক বা এ ধরনের অন্য যেকোন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার বা কোন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অথবা কোন সাংবাদিক সম্মেলন করার কোনও সুযোগ নেই।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সৌদি আরবের আইনে গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা জানান, এরপরও কোন ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বা পরিচালনা করলে তা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের আওতায় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এমনকি এ অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে জেল জরিমানার সম্মুখীন হওয়াসহ দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে কমিউনিটির কোন ধরণের সংগঠনকে কোন প্রকার স্বীকৃতি, অনুমোদন, আশ্রয়, প্রশ্রয় প্রদান করা থেকে সম্পূর্ণ রুপে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। সৌদি সরকার জানায়, এখানে অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বা প্রেস ভিসা ব্যতিরেকে যে সকল বাংলাদেশি নাগরিকগণ সাংবাদিকতা করছেন বা সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং ঢাকায় সংবাদ প্রেরণ করছেন তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রেও এসব অপরাধের জন্য জেল জরিমানাসহ দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্মুখীন করা হবে বলে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এ-ও জানানো হয়, উপরুল্লিখিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে মেনে চলার লক্ষ্যে সকল বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবহিত করার বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ প্রদান করেছে। বর্ণিত বিষয়ে কেউ অপরাধ করলে দূতাবাস বা কনস্যুলেট তার কোনরূপ দায়ভার গ্রহণ করবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এমতাবস্থায়, সৌদি আরবের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য বর্ণিত বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ দূতাবাস।