ড. আবদুল লতিফ মাসুম:

নীতিগতভাবে দুর্নীতিকে অনুমোদন করেন এমন কেউ কোথাও নেই। আবার দুর্নীতি দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত নন এমন লোকের দেখা পাওয়াও ভার। ওয়ান-ইলেভেনের পরবর্তী সময়ে তদানীন্তন জেনারেল হাসান মাশহুদ চৌধুরী সদ্য গজিয়ে ওঠা দুর্নীতি দমন কমিশনের- ‘দুদক’ প্রধান ছিলেন। এক সেমিনারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বকাঝকা করছে সবাই।

আমি বললাম, বাংলাদেশের কোটি মানুষকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় দুর্নীতির পক্ষে আছে কেউ? সবাই বলবে, কেউ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সবাই আছে। দুর্নীতির পরীক্ষায় উত্তীর্র্ণ হওয়া কঠিন। যখন নিজের স্বার্থ ও সুবিধার প্রশ্ন আসে সবাই দুর্নীতির কাছে আত্মবিকৃত।

দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; রাজনৈতিকও বটে। এই দেশের অন্তত শিক্ষাক্ষেত্রটি একসময়ে দুর্নীতিমুক্ত ছিল। এই ক্ষমতাসীনদের প্রাথমিক যুগে (১৯৭২-৭৫) তাও সীমালঙ্ঘন করেছিল। মনে পড়ে, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার সময় যখন কেউ নকল করছে না, ‘কিতাব’ দেখে লিখছে তখন একজন ‘নির্বোধ’ নকল করছে না। একজন পরিদর্শক একান্ত দয়াপরবশ হয়ে ইংরেজি ছাপার অক্ষর আমার সামনে রাখলেন। আমি বললাম, ম্যাডাম, ধন্যবাদ। ওটা আগেই লিখেছি। তিনি বিস্মিত হলেন। এমন নির্বোধ এখনো এই সমাজে আছে! নইলে দেশটা আছে কী করে?

যেকোনো লেখার সূচনায় বিষয়টিকে সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতা আছে। দুর্নীতি বিষয়ক অনেক সংজ্ঞা আমার হাতের কাছেই। কিন্তু সে পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের বিন্দুমাত্র যোগ্যতা আমার নেই। এইটুকুই বলা যেতে পারে, ‘নীতি বিরোধী যা, তাই দুর্নীতি’। বলতে পারেন, নীতি কী জিনিস? রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড লাস্কি যেমন সংস্কৃতির সংজ্ঞা দিয়েছেন, ‘আমরা যা তাই সংস্কৃতি’। তেমনি আমরাও বলতে পারি, ‘আমাদের দেখা শেখা যা অন্যায়-অনিয়ম তাই দুর্নীতি’। আমরা অনেকসময় স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক বলে সমাজের অনেক কিছু ব্যাখ্যা করি। সেভাবেও দুর্নীতিকে দেখা যায়। কিন্তু সময় বদলে গেছে। কবি জীবনানন্দ বলেছেন, ‘যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা’। অস্বাভাবিকতাই স্বাভাবিকতায় পর্যবসিত হয়েছে। ‘ডিজ অর্ডার বিকামস দ্য অর্ডার অব দ্য ডে’।

দুর্নীতির রাজ্য-সাম্রাজ্য অনেক বিস্তৃত। এই বিষবৃক্ষের শাখা-প্রশাখা অনেক। এই আহাজারি শুনতে শুনতে আপনাদের ভোর হয়ে যাবে। তাই একটি শাখায় আরোহণ করতে চাই। ‘মোখতাছার বয়ান’ করতে চাই। যে শাখাটিকে ভর করে আছে অন্য শাখা-প্রশাখা, সেখানেই আঘাত করতে চাই। মহাকবি কালিদাস নাকি একদিন যে শাখায় বসেছিলেন সেই শাখাতেই আঘাত করছিলেন। ‘দেবদূত’ তা দেখে তাকে বর দিয়েছিলেন। মহাপণ্ডিত হয়েছিলেন তিনি। আমাদের সেরকম আশা-দুর্নীতি যদি দেবগুণে নীতিতে পরিণত হয়। আমরা তো দেবদূতে বিশ্বাস করি না। আল্লাহর রহমতের আশা করি। তিনি ইচ্ছা করলে বদলে দিতে পারেন সবকিছু। ‘লা তাকনাতু মির রহমাতিল্লাহ’। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে চাই না। আশার কথা, আমাদের ডান-বাম, লাল-নীল-সবুজ সব রাজনৈতিক দলেরই কমন স্লোগান, ‘এ সমাজ ভাঙতে হবে, নতুন সমাজ গড়তে হবে’। বুঝতে পারছি রাজনীতিই হচ্ছে সমাজের ভাঙা-গড়ার হাতিয়ার। রাজনীতিই হচ্ছে দেশের ভাগ্যবিধাতা; দেশ পরিচালনার চাবিকাঠি। যাদের হাতে সেই চাবিকাঠি তাদের মেজাজ-মর্জি, ধরন-ধারণ ও বিষয়-বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে নীতি অথবা দুর্নীতি।

অবশ্য পরিচালনার জন্য সব দেশেই একখানা কিতাব আছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এস ই ফাইনারের ভাষায় তা হচ্ছে- ‘অটোবায়োগ্রাফি অব পাওয়ার রিলেশনশিপ’। ক্ষমতা সম্পর্কের আত্মবিবৃতি। কার কী ক্ষমতা, রাজার কী প্রাপ্য, প্রজার কী দায়- সব সেখানে লেখা আছে। বড় বড় দেশে ওই কিতাবের বাইরে যাওয়া দায়। আর আমাদের রাজনীতিবিদরা ওই কিতাবকে থোড়াই কেয়ার করেন। মনে করেন স্রেফ ‘বাত কা বাত’। নইলে কি এই দেশে গড়ে তিন বছরে একবার সংশোধনী হতে পারে? অবশ্য আমাদের সংবিধানে অনেক ভালো ভালো কথা লেখা আছে। তবে কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই। গোয়ালে থাকলে আমাদের এই দশা হতো? যেমন সংবিধানের প্রথমেই বলা আছে, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’! আসলে তো ক্ষমতাই সকল রাজনীতির উৎস। মাঝে মধ্যে রাজনীতিবিদরা আপ্তবাক্য আওড়ান, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’।

বাস্তবে উল্টো। ‘দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’। দেশ বা জনগণ গোল্লায় যাক তাতে কিছু যায় আসে না। সবারই মন্ত্র ‘আমার সোনার হরিণ চাই’। নীতি নয়, দুর্নীতিই সেই সোনার হরিণের বাহন। এ দেশের খুচরা এবং পাইকারি নেতা, আধা নেতা, পাতি নেতা, রাঘববোয়াল আর পুঁটি নেতা সবারই একমাত্র আরাধ্য অর্থ-বিত্ত ও চিত্ত নয়। লোকেরা মিছা কথা কয়। অর্থই অনর্থের মূল। টমাস ফুলার বলেন, ‘অর্থ ও ক্ষমতার লোভে মানুষ যেকোনো পর্যায়ে নেমে যেতে পারে’। আজকের বাংলাদেশ এর বাস্তব প্রমাণ।

দুর্নীতির রাজনৈতিক অংশই আমাদের প্রতিপাদ্য। দেশ চালান রাজনীতিবিদরা। রাজনৈতিক দল ব্যবস্থাই আজকের সরকার ব্যবস্থার নিয়ামক। স্কহাটসেইনডার বলেন, রাজনৈতিক দল ব্যতীত আধুনিক গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অকল্পনীয়। সেটি রাষ্ট্রপতিশাসিত যুক্তরাষ্ট্র হোক কিংবা প্রধানমন্ত্রী শাসিত ব্রিটেন। আমরা যেহেতু ব্রিটেনের কলোনি ছিলাম, ২০০ বছর ধরে তারা আমাদের অভ্যস্ত করে তুলেছে। সুতরাং উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদীয় শাসনব্যবস্থাই আমাদের কাছে উত্তম মনে হয়েছে। রাজনৈতিক দলই সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার প্রাণ। স্বাধীনতার প্রাথমিক বছরগুলোতে সংসদীয় গণতন্ত্রে দুর্নীতির যে বীভৎসতা জনগণ দেখেছে তাতে তাদের মোহমুক্তি ঘটার কথা। বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদী। ১৯৯০-এ স্বৈরাচারের পতনের পর একইভাবে আশায় বুক বাঁধে। কিন্তু তাদের কপাল ফেরেনি। দিন যতই অতিক্রান্ত হয় দুর্ভোগ ততই বাড়ে।

অতীতের চেয়ে ভবিষ্যৎ ভালো হয়নি। বিগত এক যুগ ধরে বাকশালের চেয়েও নিকৃষ্ট শাসনব্যবস্থায় অতিক্রান্ত হচ্ছে দেশ। আগেরটি ছিল আইনি কাঠামোর মোড়কে, এখনকারটি বেআইনি-বেপরোয়া সড়কে। সবচেয়ে সর্বনাশ করছে রাজনৈতিক দুর্নীতি। এই দুর্নীতির দু’টি দিক- কাঠামোগত ও প্রক্রিয়াগত। সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে যদি অবশেষে আইনি ও বেআইনি বাকশাল কায়েম হয় সেটি কাঠামোগত দুর্নীতি। আরো রাষ্ট্রীয় কাঠামো বা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি গণতন্ত্রের পরিপূরক না হয় তাহলে সেটিও কাঠামোগত দুর্নীতির লক্ষণ। অপরদিকে এই কাঠামোগত পরিবর্তনের অনুষঙ্গ হচ্ছে- আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এগুলোর গঠন প্রক্রিয়া, কাঠামো এবং উদ্দেশ্য যদি গণতন্ত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এর পরিপূরক না হয় তাহলে তা প্রক্রিয়াগত দুর্নীতির প্রমাণ বহন করে।

জাতিসঙ্ঘের কনভেনশনে দুর্নীতির মূল উৎস তথা বিস্তৃতির জন্য রাজনৈতিক কর্তৃত্বকেই দায়ী করা হয়েছে; যেহেতু তারাই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক। নীতিই যদি দুর্নীতি হয় কোনো দল বা সরকার ব্যবস্থায় তা হয়ে ওঠে দুরারোগ্য। কনভেনশনে দুটো পর্যায়ে রাজনীতিকে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। প্রথমত, তাদের ভাষায় ‘পজিশন অব অথরিটি’ বা কর্তৃত্বের অবস্থান এবং দ্বিতীয়ত, ‘অ্যাবিউজ অব পাওয়ার’ বা ক্ষমতার অপব্যবহার। ব্যক্তিগত বা বেসরকারি দুর্নীতির জন্য পরোক্ষভাবে দেশের সরকার দায়ী হলেও জাতিসঙ্ঘ এসব দুর্নীতিকে রাজনৈতিক দুর্নীতি বলতে চায় না। তাদের ভাষায়, ‘সরকারি পদাধিকারী ব্যক্তি যখন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, ‘তখনই রাজনৈতিক দুর্নীতি ঘটে’। লক্ষণীয়, রাজনৈতিক দল দ্বারা পরিচালিত সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তখন রাষ্ট্রের যাবতীয় নীতিগত অবস্থান তারা নির্ধারণ করে। সম্পদের কর্তৃত্বপূর্ণ বণ্টনের মালিক-মোখতার তারাই হয়ে থাকে। সুতরাং, দুর্নীতির জন্য তারা যেমন নীতিগতভাবে দায়ী, তেমনি প্রক্রিয়াগতভাবেও দায়ভার তাদের।

একটি গবেষণা নিবন্ধে দুর্নীতিকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি ছোট, অপরটি বড়। তারা নাম দিয়েছেন, স্মল এবং গ্র্যান্ড করাপশন। যেমন একজন পিওনের চাকরির জন্য মন্ত্রীর সুপারিশ- এটা ছোট। আবার বড় ব্রিজের কনসট্রাকশনের কাজ পাওয়ার জন্য সরকার প্রধানের ইশারা- উভয়ই ‘রাজনৈতিক দুর্নীতি’ বলে গণ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট দুর্নীতি প্রকারান্তরে সমাজকে কলুষিত করে এবং সামাজিক হতাশা, ক্ষোভ, অপরাধপ্রবণতা ও অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে গ্র্যান্ড করাপশন বা খুব বড় ধরনের দুর্নীতি জাতীয় বিপর্যয় বা বড় ক্ষতির সৃষ্টি করতে পারে। এর একটি বৈশ্বিক প্রভাবও অনুভূত হয়। যখন বিশ্ব ব্যাংকের মতো সংস্থা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন হতাশ হতে হয় বৈকি। দুর্নীতি হোক কি না হোক জাতি হিসেবে দুর্নীতির যে নেতিবাচক বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়, আন্তর্জাতিক মহলে তা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মতো দেশ দুর্নীতিতে ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ হয়েছে বারবার। দীর্ঘকাল ধরে শিরোপার পরিবর্তন হলেও অবস্থানের উন্নতি হয়নি। বিশ্বসমাজে বাংলাদেশের রাজনীতি বা রাজনৈতিক এলিটদের ইমেজের জন্য দুর্নীতির অবস্থানই যথেষ্ট।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক স্টিফেন ডি. মরিস মন্তব্য করেন, ‘পলিটিক্যাল করাপশন ইজ দ্য ইললেজিটিমেট ইউজ অব পাবলিক পাওয়ার টু বেনিফিট এ প্রাইভেট ইন্টারেস্ট’। এখানে পাওয়ার বা ক্ষমতার কেন্দ্রিকতাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনেকসময় দেখা যায়, আইন-কানুন, রীতি-রেওয়াজ, পার্চেজ পলিসি বা টেন্ডারের বিধিবিধান ঠিক রেখেই রাজনৈতিক দুর্নীতি হতে পারে। ডি. মরিস সেটিকেও বেআইনি বলেন, যদিও আইনের মোড়কে তা করা হয়। এমনকি কখনো কখনো নতুন আইন করে দুর্নীতিকে দৃশ্যত বৈধ করে রাজনৈতিক সরকার। যে কারণগুলো রাজনৈতিক দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে সেগুলো হচ্ছে- ক. স্বার্থের দ্বন্দ্ব খ. বিশেষ ক্ষমতা গ. একক ক্ষমতা ঘ. স্বচ্ছতার অভাব এবং ঙ. বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এভাবে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে দুর্নীতি একটি স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে বিকশিত হয়। জনগণ দেখতে দেখতে দুর্নীতির কাছে আত্মসমর্পণ করে অথবা নিষ্পৃহ জীবনদৃষ্টি পোষণ করে।

দুর্নীতি দূর করার গতানুগতিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞজনদের মতামত- সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এগুলো তখনই সম্ভব, যখন দেশে রাজনীতি সচল থাকে। এ সম্পর্কিত গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক দুর্নীতি সেসব দেশেই প্রবল যেখানে রাজনীতি অনুপস্থিত। আর রাজনীতির অপর অর্থ- গণতন্ত্র। একটি চিরায়ত প্রবাদবাক্য : ‘অ্যাবসোলিউট পাওয়ার, করাপটস অ্যাবসলিউটলি’। সার্বিক ক্ষমতা সার্বিকভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত করে তোলে। ইতঃপূর্বে আলোচনায় বারবারই ক্ষমতার প্রসঙ্গ উচ্চারিত হয়েছে। সুতরাং রাজা-বাদশাহ, আমির-ওমরাহ, সামরিক অথবা বেসামরিক স্বৈরাচার যেখানে প্রতিষ্ঠিত, সন্দেহাতীতভাবে রাজনৈতিক দুর্নীতিও সেখানে পরিপূর্ণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি অভিধা প্রচলিত- ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার’। তৃতীয় বিশ্বে অনেক দেশ রয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র দৃশ্যমান এবং সংবিধান ও সরকারে গণতন্ত্রের লেবাস রয়েছে। কিন্তু অদৃশ্যমানভাবে স্বৈরতন্ত্রই প্রতিষ্ঠিত। সেখানে নির্বাচন একধরনের প্রহসন। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনকে নির্বাসন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কলামিস্ট ফরিদ জাকারিয়ার কথিত ‘এক দিনের রাজাও’ আর জনগণ নেই। তৃতীয় বিশ্বে এসব গণতন্ত্রের অনেক বিশেষণ -পট গণতন্ত্র, অনুদার গণতন্ত্র, সর্বহারার গণতন্ত্র প্রভৃতি। এই সময়ে আমাদের ‘মূলমন্ত্র উন্নয়নের গণতন্ত্র’। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, গণতন্ত্রের আগে-পিছে যখন কোনো নির্দেশক শব্দ বসছে তখনই বুঝতে হবে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’। রাজনৈতিক দুর্নীতির অবসানে শুধু একটি মাত্র শব্দের উচ্চারণ- ‘গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র’। মনীষী টি এইচ বলেন, ‘ডেমোক্র্যাসি মে লুজ মেনি ব্যাটলস, বাট উইনস দ্য লাস্ট’।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com