ঈদের পর সরকারের কাছে অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করবে পরিবার। ওই আবেদনে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর সুযোগ প্রদানেরও দাবি জানানো হবে। একই সাথে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্থায়ী জামিনের বিষয়ে দলের আইনজীবীরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

টানা ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। শর্ত ছিল, এই সময়ে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন, যেতে পারবেন না দেশের বাইরে। কিন্তু খালেদা জিয়া করোনার মধ্যে মুক্তি পাওয়ায়, তার চিকিৎসার বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগই নিতে পারেনি বিএনপি। রাজধানীর গুলশানের বাসায় একান্ত পরিবেশেই চিকিৎসকের পরামর্শে দিন কাটছে তার। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু মুক্তির সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় দলীয় প্রধানের অসুস্থতা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ভর করেছে।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতেই খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছেন। তারাই তখন বিষয়টি মধ্যস্থতা করেছেন। এখন আবারো পরিবারের পক্ষ থেকেই সরকারের কাছে মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হবে। ওই নেতা জানান, বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টি নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। কারণ এর আগেও খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর, লন্ডন এবং আমেরিকায় চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশে নিয়েই চিকিৎসার কথা ভাবা হচ্ছে। আর যেহেতু তার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন তাই খালেদা জিয়া যদি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যেতে যান তবে সেখানে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, সরকারের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ জন্য খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রয়োজনীয় প্রামাণিক কাগজপত্রও চিকিৎসক টিমের কাছে চাওয়া হয়েছে। ঈদের পর সেগুলো সংযুক্ত করে আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।
খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম গতকাল বুধবার নয়া দিগন্তকে বলেন, মুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই আবেদন করা হবে। তবে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু সেখানে তার কোনো সঠিক চিকিৎসা হয়নি বলে বিএনপির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কোনো রাজনীতি করতে চায় না। তবে চিকিৎসা ছাড়াই তাকে আবারো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, সরকার ভালো করেই জানে, উন্নত চিকিৎসা হওয়াতো দূরে থাক, করোনার কারণে খালেদা জিয়াকে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই বাস্তÍবতা মেনে নিয়েই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুচিকিৎসার জন্য মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে হবে।

কিছু দিন আগে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়েও চিকিৎসা দেয়া যাবে। খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, সেই অনুমতি তারা পাবেন। ফলে সাময়িক মুক্তির মেয়াদের ছয় মাস শেষে কারাগারে যেতে হবে না খালেদা জিয়াকে। ফিরোজায় থেকে পাশের হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা গ্রহণ অথবা লন্ডনে ছেলের বাসায় থেকে যুক্তরাজ্যের ভালো কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এ দিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিদিনই ফোনে ঐক্যফ্রন্ট, জোট কিংবা বামদল নেতাদের কেউ না কেউ খালেদা জিয়া কেমন আছেন, তা জানতে চাচ্ছেন।

অন্য দিকে আদালত খুললে খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন চাওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। দলের এক আইনজীবী জানান, খালেদা জিয়ার সাথে এরই মধ্যে কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী দেখা করে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। খালেদা জিয়াকে তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৭ মামলার সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এই ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।