সন্তান যাতে সুখে থাকে সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেন মা-বাবা।  সন্তানের ক্যারিয়ার গড়তে দিনরাত একাকার করে শ্রম দিয়ে যান তারা।  কিন্তু যেই সন্তানের জন্য এত ত্যাগ মৃত্যুর মুহূর্তে যদি তাকে কাছেই পাওয়া না যায়, তাহলে এত সাধনার মূল্য কি থাকে!

এক বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার রাতে চাঞ্চল্য ছড়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জের রানি ভবানি রোড এলাকায়। কীভাবে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনও অন্ধকারে পুলিশ।

জানা গেছে, টালিগঞ্জের রানি ভবানি রোডের বাসিন্দা ৭৫ বছরের ওই বৃদ্ধার নাম সন্ধ্যারানী দাস। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে দীর্ঘদিন আগে। কর্মসূত্রে ছেলে থাকেন আমেরিকায়। ফলে বাড়িতে একাই থাকতেন ওই বৃদ্ধা।

কয়েকদিন ধরেই এলাকার বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। কিন্তু কোথা থেকে তা আসছে তা বুঝতে পারছিলেন না। রবিবার গন্ধটা আরও প্রকট হতেই উৎসের সন্ধান শুরু করেন টালিগঞ্জের ৮৮ ওয়ার্ডের রানি ভবানি রোডের বাসিন্দারা।
নম্বর
এরপরই তারা বুঝতে পারেন, গন্ধ আসছে সন্ধ্যারানীর বাড়ি থেকেই। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় টালিগঞ্জ থানায়। পুলিশ ঘরে ঢুকতেই দেখতে পান শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য।

জানা গেছে, বিছানার ওপর পড়ে ছিল বৃদ্ধার পচা-গলা দেহ। বেশ কয়েকদিন আগে মৃত্যু হওয়ায় শরীর থেকে চামড়া কালো হয়ে খসে পড়তে শুরু করেছিল।

বৃদ্ধার এই নির্মম পরিণতি জানার পর আক্ষেপের সুর প্রতিবেশীদের গলায়। তাদের কথায়, একবার যদি খোঁজ নেওয়া হতো আগে। তাহলে হয়তো এই পরিণতি হত না।

প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না ওই বৃদ্ধার? কারণ, বেশ কয়েকদিন আগেই তো মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার। এতদিন মাকে ফোনে না পেলে পড়শিদের যোগাযোগ করবেন ছেলে- এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এ রকম কোনও ফোন আসেনি বলেই দাবি প্রতিবেশীদের।

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃদ্ধার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। মা-ছেলের সম্পর্ক কেমন ছিল, তাও জানার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে মৃত্যুর কারণও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।