বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হওয়া শারমিন জাহানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাতে শারমিন জাহানকে ঢাকার শাহবাদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। বিএসএমএমইউ’র প্রক্টরের দায়ের করা প্রতারণা মামলার প্রেক্ষিতে শারমিন জাহানকে গ্রেফতোর করে পুলিশ।

শারমিন জাহানের প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করার দায়িত্ব পেয়েছিল।

মামলার এজাহারে বিএসএমএমইউ’র প্রক্টর উল্লেখ করেছেন, শারমিন জাহানকে মাস্ক সরবরাহ করার কার্যাদেশ দেয়ার পর চার দফায় হাসপাতালে মাস্ক সরবরাহ করেন তিনি।

প্রথম দুই দফার মাস্কে কোনো সমস্যা না থাকলেও পরের দুই দফার মাস্ক ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এরপর ১৮ই জুলাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শারমিন জাহানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন, যার জবাবে শারমিন জাহান ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন।

এরপর বৃহস্পতিবার শাহাবাগ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রিমান্ড মঞ্জুর করার পর অভিযুক্ত শারমিন জাহানের আইনজীবী পনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তার মক্কেল বলেছেন যে তিনি ‘গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় জানান, সরকারি চাকরির বিধিমালা ভঙ্গ করে শারমিন জাহান তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান থেকে মাস্ক সরবরাহের দায়িত্ব নেন।

তিনি বলেন, আদালত শারমিন জাহানকে প্রশ্ন করেছিলেন যে ‘আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হয়েও বিধিমালার তোয়াক্কা না করে কোন আইনবলে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন’, তিনি ওই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

দেশের গণমাধ্যমে শারমিন জাহানের মাস্ক দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত খবরগুলোতে বলা হয় যে শারমিন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

তবে ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে শারমিন জাহানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কিনা, তার রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি সুবিধা নিয়েছিলেন কিনা, এসব বিষয় তদন্তের সময় বিবেচনায় রাখা হবে।’

সূত্র : বিবিসি