বাংলাদেশ ক্রিকেটে যখন সাকিব আল হাসানের আগমন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই স্পিন অলরাউন্ডারকে। ক্রমেই বিকশিত হয়েছেন সাকিব। এখন তিনি পরিপূর্ণ এক ক্রিকেটার। আর সাকিব জানালেন, পিতৃত্ব তাকে আরো পরিপূর্ণ করে তুলেছে।অনেক বদলে গিয়েছেন তিনি। দুই শিশু কন্যা তার জীবন আমূল পাল্টে দিয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন কথা বলেছেন বাংলাদেশের এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

জুয়াড়ির প্রস্তাব পেয়ে তা গোপন করার দায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি’র এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পোহাচ্ছেন সাকিব।

আর ক্রিকইনফো’র ক্রিকেটবাজি সিরিজে ভারতীয় সাবেক ব্যাটসম্যান দীপ দাসগুপ্তকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাকিব বলেন, তার ঘটনাটি অন্য সকল খেলোয়াড়ের জন্য সতর্কবার্তা।

সাকিব আল হাসান বলেন, ‘অন্য কারো সঙ্গে এমনটি ঘটতে পারতো এবং আমি তার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারতাম, কিন্তু এটা আমার সঙ্গে ঘটেছে এবং এ থেকে অন্য সবাই শিক্ষা নিতে পারে। প্রথম দিন থেকেই আমি সৎ থাকতে চেয়েছি। তারা (আইসিসি) আমার কাছে যে প্রশ্নই করেছে, উত্তরে আমি কিছু লুকাইনি। আমি অকপটে বলতে চাই, আমি ভুল করেছি। আমি এজন্য দুঃখিত এবং আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই, আমি চাই আমার ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নেবে এবং কখনো এমন ভুল করবে না।’
সাকিব আল হাসান বলেন, ‘ক্যারিয়ারের একবারে শুরুতেই বড় দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আমার ভুল হওয়ারই ছিল। আমি অধিনায়ক হলাম আমার বয়স তখন মাত্র ২১। আমি প্রচুর ভুল করছিলাম এবং আমাকে নিয়ে সবাই নানা কথা ভাবছিল। এখন আমি বুঝতে পারি কিছু বিষয়ে আমার দোষ ছিল এবং কিছুটা আমি ভুল বুঝেছিলাম। উপমহাদেশে এমন হয়েই তাকে। অবশ্যই আমার পক্ষে যতটা সম্ভব ভুলের সংখ্যা কমাতে চাই। এরই মধ্যে আমি বিয়ে করেছি। আমার দুটি সন্তান আছে। খেলাটা এবং জীবনকে আমি আগের চেয়ে ভালো বুঝি। এটা আমাকে আগের চেয়ে শান্ত মেজাজের মানুষে পরণিত করেছে। আমাকে এখন খুব বেশি ভুল করতে দেখবেন না। আমার দুই কন্যা আমার জীবন আমূল পাল্টে দিয়েছে।’

আগামী ২৯শে অক্টোবর সাকিবের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী-কন্যাদের সঙ্গে অবস্থান করছেন সাকিব।