যুক্তরাষ্ট্রের কৃষাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর পর্দার আড়ালে থাকা বর্ণবাদের অনেক ঘটনা সামনে আসছে। ‘ভদ্রলোকের খেলা’ বলে পরিচিত ক্রিকেটও যে বর্ণবাদমুক্ত নয় সেটি ড্যারেন স্যামি-ক্রিস গেইলদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। এবার মুখ খুললেন সাবেক ইংলিশ পেস অলরাউন্ডার ফিলিপ ডিফ্রেইটাস। জানিয়েছেন, কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল তাকে।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৮৬-৯৭ পর্যন্ত ৪৪ টেস্টে ১৪০ উইকেট ও ১০৩ ওয়ানডেতে ১১৫ উইকেট শিকার পেস তারকা ডিফ্রেইটাসের। বেশিদিন খেলতে পারেননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় বলতে হয়েছিল তার। খেলবেন কী করে? নিয়মিত মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হতো তাকে। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের কাছ থেকে প্রায়ই চিঠি পেতেন।

চিঠিগুলোর কমন বাক্য হলো, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে খেললে গুলি করবো তোকে।’
৫৪ বছর বয়সী ডিফ্রেইটাস স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘‘আমি ন্যাশনাল ফ্রন্টের কাছ থেকে ঘৃণাভরা চিঠি পেতাম। বেশ কয়েকবার পেয়েছি, সেখানে লেখা থাকত, ‘যদি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলিস, তোকে গুলি করবো আমরা।’’
প্রাণ বাঁচাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাহায্য নেন ফ্রেইটাস। তবুও তার মনে ভয় থেকে যেত। তিনি বলেন, ‘‘আমার ঘরের পাহারায় পুলিশ নিয়োজিত ছিল। আমার নামে একটা গাড়ি ছিল, আমি সে নামটাও মুছে দিই। লন্ডনে সে গাড়ি চালানোর চিন্তাও করতে পারিনি। লর্ডসে টেস্ট খেলার জন্য হোটেলে আছি এমন অবস্থায়ও আমার মাথায় চিন্তা, ‘খেলবো কি খেলব না? যদি স্নাইপার থাকে মাঠের আশপাশে? এ মানুষগুলো আমাকে হারাতে পারবে না এই প্রতিজ্ঞাই আমাকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে দিয়েছে।’’
এতকিছুর পরও ডিফ্রেইটাসের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি কেউ। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোনো সাহায্য পাইনি। সমর্থন দেয়নি কেউ। একাই সামলাতে হয়েছে সব। এখনো কষ্ট লাগে। আমার মনে আছে বাড়ি ফিরে মাকে বলেছিলাম, ‘আমাকে এখানে মানায় না কিন্তু যা অর্জন করেছি, তাতে আমি গর্বিত।’’
ডিফ্রেইটাস বলেন, তার আমলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো পরিবেশ ছিল না ইংল্যান্ডে। তিনি মনে করেন, এখন তার উত্তরসূরিদের সে সুযোগ আছে। ফ্রেইটাসের বিশ্বাস, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকবেন রুট-স্টোকসরা।