ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ) থেকেঃ-    সুনামঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় কোন প্রকার উপসর্গ ছাড়াই মরণঘাতী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলছে।অথচ মারণাস্ত্র করোনা দেহে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। রিপোর্ট আসার আগমুহূর্ত পর্যন্ত রোগী নিজেই জানেনা তার শরীরে রয়েছে মরণঘাতী করোনার ভাইরাস।      
২৭ জুন থেকে এ-পর্যন্ত এনজিও কর্মীসহ নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ৬ জন। এনিয়ে উপজেলায় রোগীর সংখ্যা ৮২ জনের কোটায় গিয়ে দাঁড়াল।নতুনভাবে করোনায় সংক্রামিতদের মধ্যে ১জন উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের, ১জন আশারকান্দি ইউনিয়নের ও ৪জন জগন্নাথপুর পৌর-এলাকার বাসিন্দা।  
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানাযায়,২৬ জুন শুক্রবার রাতে  সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শাবির) পিসিআর ল্যাব থেকে প্রকাশিত কোভিড-১৯ নমুনা পরিক্ষার রিপোর্টে ২ জন এনজিও কর্মীসহ এ-পর্যম্ত নতুন করে আরও ৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। 
প্রতিবেদনের সূত্রধরে (২৭ জুন শনিবার) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃসৈয়দ মোঃজোবায়ে এর নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টীম করোনায় সংক্রামিত দুই এনজিও কর্মীর সুরক্ষার জন্য তাদের কর্মস্হল পৌরসভার সি/এ মার্কেট নামক এলাকায় যান। এ-সময় তাদের সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় কর্মস্হলে উনারা নেই। তারা নমুনা দিয়ে রিপোর্ট আসার আগেই চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। এদের মাঝে একজন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের অধিবাসী, অপরজন মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা নিজনিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।                                 
এ-দিকে প্রানঘাতী করোনা পরিস্থিতি উপজেলার দু”টি এলাকায় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গত ১৬ জুন থেকে জগন্নাথপুর পৌরএলাকা ও সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নকে রেড-জোন ও আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেন স্হানীয় প্রশাসন।কিন্তু বর্তমানে উপজেলার মধ্যে পৌর-শহরই করোনা ভাইরাস সংক্রামনের নিরাপদ আশ্রয়স্হলে হয়ে উঠেছে।                    পৌর-শহরে দুইদিনের মাতায় নতুন করে আরও ৪ জন রোগী সনাক্তকরণ হয়েছেন।    
উপজেলায় এযাবৎ মোট ৮২জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন।তার মাঝে ৫৪ জন রোগীই রেড-জোন আক্ষায়িত লকডাউন ঘোষিত জগন্নাথপুর পৌরসভার বাসিন্দা।             
 
এ-পর্যন্ত একই পরিবারের ৪জন, সদর হাসপাতালের মহিলা চিকিৎসক ও পুলিশ অফিসার সহ মোট ৩৯ জন মরণঘাতী করোনার হাত থেকে রেহাই পেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন। ৪৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিভিন্ন আইসোলেশনে।