ক্ষমতা ‘স্থায়ী করতে’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংবিধান সংশোধন করার যে চেষ্টায় আছেন, সেই সিদ্ধান্তের ওপর রাশিয়ায় ভোট শুরু হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের পক্ষে বেশি ভোট পড়লে পুতিন আরও দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে বিবেচিত হবেন।

বিবিসি জানিয়েছে, এই ভোট ১ জুলাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয়েছে, যাতে বেশি ভিড় এড়ানো যায়।

পুতিন-বিরোধী কর্মী হিসেবে পরিচিত আলেক্সি নাভালনির দাবি, সংবিধান পরিবর্তন হতে দিলে পুতিন আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যাবেন।

পুতিন এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও রুশ জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ ‘স্টেট ডুমা’য় ভাষণ দেয়ার সময় গত মার্চে জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ‘পরিণত অবস্থায়’ আসলে নির্ধারিত সময়ের আগেও সরে যেতে পারেন।

রাশিয়ার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৪ সালের পর পুতিন আরেকবার (টানা তিনবার) প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। এই নিয়মে তিনি পরিবর্তন আনতে চাইছেন।

সংবিধান পাল্টাতে পারলে তিনি আরও দুইবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারবেন।

সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্তের ওপরে ভোট দেবেন ১১০ মিলিয়ন ভোটার। দেশটির বিভিন্ন স্থানের ভোটকেন্দ্রে কর্মকর্তারা ভোটারদের মাস্ক এবং স্যানিটাইজার সরবরাহ করছেন।

৬৭ বছর বয়সী পুতিন ২০০০ সাল থেকে রাশিয়ার ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। স্তালিনের পর তিনিই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নেতা।

সংবিধান সংশোধন করতে রাশিয়ায় ১৯৯৩ সালের পর এটাই প্রথম ভোট। পুতিন ঠিক কী পরিকল্পনা করেছেন, সে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অন্ধকারে। বিশ্লেষকেরা ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন।

বিবিসির রুশ বিভাগের সেরগেই গোরিয়াশকো বলছেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতায় থাকতে চান। প্রশ্নটা হচ্ছে কীভাবে, কী ভূমিকায়। আমরা প্রায় নিশ্চিত যে তিনি ২০২৪ সালের পর প্রেসিডেন্ট থাকবেন না। হয়তো তিনি নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবেও থাকতে পারেন।’

সেক্ষেত্রে তিনি দুটি কাজ করতে পারেন। প্রথমত ২০০৮ সালের মতো আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী হলে সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতা বাড়িয়ে নেবেন। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে দেবেন।

অথবা কাজাখস্তানের রাজনৈতিক মডেল অনুসরণ করতে পারেন। এই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নুরসুলান নাজারবায়েভ পদত্যাগের পর সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রধান হিসেবে থেকে যান।