অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান:

আজ ৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।দক্ষিন পুর্ব এশিয়ায় যারা ভারতের মত একটা দেশের পাশে অবস্থান করে তাদের জন্য সার্বভৌমত্বের ইস্যু যখনই আসবে তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার কথা আসবে।যখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় রাষ্ট্রে তখন জিয়ার কথা মনে পড়ে যাবে। যিনি বাংলাদেশকে শুধু তার ভুগোল দেন নি ইতিহাসও দিয়েছিলেন।যিনি বাংঙ্গালীর হাজার বছরের পলায়নপরতার ইতিহাসকে, চর্যার কবি ও রাজা ভুসুকু’র পরিচয় লুকিয়ে বাঁচার পথকে মাড়িয়ে দেশের মধ্যে মানুষের মধ্যেই থেকে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। অমিত তেজের গেরিলা ও যোদ্ধা ছিলেন জিয়া।তাই কখনো পলায়ন করেন নি তিনি।তিনিই সেই মানুষ যিনি বাংলাদেশকে একটি রাষ্ট্রে পরিনত করেছিলেন।তিনি রাষ্ট্রনায়ক,প্রথম স্টেটসম্যান!!!তিনি বাংলাদেশের সমগ্র উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা যারা দেশের মধ্যে যুদ্ধ করেছেন,যারা পাকিস্তানী হায়েনাদের হাতে জিম্মি থেকেও যুদ্ধে সাহায্য করে ছিলেন।দেশের মধ্যে অসীম কষ্ট স্বীকার করেছেন। আজ ৩০ মে সেই মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৩৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। বাংলাদেশ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে এই বীরের।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক অভিধানে সামরিক শাসনের সেনাবাহিনী ও সার্বভৌমত্বের সেনাবাহিনীর ফারাকটা বোধগম্যতার মধ্যে আসেনি এখনো।এরশাদ ছিল সামরিক শাসনের প্রতিভূ। কিন্তু প্রায়শই ছাগলের নম্বর ছাড়া শাবকদের উদবাহু নৃত্য দেখা যায় এই রাজনীতিকদের মধ্যে। তারা এই ভেদ করতে জানেন না।
জাতীয় সংসদে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া নিয়ে যে সব বক্তব্য দেওয়া হয় তার জবাব দেবার দরকার নেই এখানে ৩ টা জিনিস মনে রাখলেই এসব নিয়ে ভাবনার কিছু নেইঃ
১.লে.কর্নেল শাফায়াত জামিল- এর “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ,রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর ” -এ সবিস্তার বর্ণনা আছে। তিনি জিয়ার পক্ষের লোক ছিলেন না।কিন্তু উল্লেখ করেছেন যে জিয়ার কি পরিমান জনপ্রিয়তা ছিল সেনাবাহিনীতে।তাহের আসলে সেই হিসেবে জিয়ার মাপের সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না।জাসদের রোমান্টিক ও টাউট প্রকৃতির বিপ্লবীরা তাহেরকে চে’গুয়েভারা ভাবতে ভালবাসতেন।
২.হাসানুল হক ইনুরা সেই সময় একদম নাবালক ছিলেন।তাই একবার ইন্ডিয়াবিরোধী আবার ইন্ডিয়ার ভাড়াটে খেলোয়ার হিসেবে খেলেছেন।
৩.ভারতের ও আমেরিকার একটা বোঝাপড়ার রাজনীতি ছিল।
জিয়া এইসময় রাষ্ট্রগঠনে মনোযোগ দিয়ে ছিলেন।তিনি ছিলেন যে কোন ষড়যন্ত্রের বাইরে।
উইকিলিকস মারফত পাওয়া আমেরিকান দূতাবাসের তারবার্তা এবং সিআইএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসা নভেম্বরের রক্তঝরা বিভিন্ন ঘটনার অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে –
“জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর শফিউল্লাহকে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে যুক্ত করা হলেও, খালেদ মোশাররফের বিষয়ে তখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে ঢাকাস্থ আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ডেভিস বোস্টার ওয়াশিংটনকে জানান।
এর প্রায় দেড় মাসের পর ৩রা নভেম্বর ভোর দুইটার দিকে খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে সিনিয়র সেনা কর্মকর্তারা অভ্যুত্থান শুরু করে। “রক্তপাতহীন” সেই অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান জিয়া ও বিমান বাহিনী প্রধান জি. এম. তোয়াবকে গ্রেপ্তার করা হয়; বঙ্গভবনে অবরুদ্ধ করা হয় রাষ্ট্রপতি মোশতাককে।
তাদের সমর্থনে ঢাকার আকাশে একটি ট্যাংক-বিধ্বংসী মিগ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার মহড়া দেয়।
বোস্টারের মতে, মোশতাককে ৪টি শর্ত দেন খালেদ মোশাররফ – ১) জিয়াকে সরিয়ে তাকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করতে হবে; ২) জুনিয়র মেজরদেরকে সেনানিবাসে ফেরত পাঠাতে হবে; ৩) মোশতাক সরকারের সমর্থক ট্যাংক ইউনিটকে নিরস্ত্র করতে হবে এবং ৪) মোশতাককে রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে হবে।
সমঝোতার এক পর্যায়ে বিকেলের পর খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং জিয়াকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। মোশতাকের দাবী অনুযায়ী শেখ মুজিবের হত্যার সাথে যুক্ত মেজরদের দেশত্যাগের অনুমতিও দেন তিনি।
খালেদ মোশাররফের দায়িত্ব গ্রহনের বিষয়টি রেডিওতে ঘোষণা করা হয় ৪ঠা নভেম্বর রাত ১১টায়।
এর আগে নিরাপত্তা চেয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের কাছে সাহায্য চেয়েছিল মোশতাক সরকার। কিন্তু কুমিল্লার কমান্ডার সেনাপ্রধান বা খালেদ মোশাররফের আদেশ ছাড়া কোন পদক্ষেপ নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
তারবার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন খালেদ মোশাররফ ও মোশতাক দুজনেই রক্তপাত এড়াতে চাইছিলেন কেননা এতে করে ভারত হস্তক্ষেপ করার একটা অজুহাত পাবে।
মঙ্গলবার ও বুধবার টানা আলোচনা চলে। বৃহস্পতিবার (৬ই নভেম্বর) মোশতাক পদত্যাগ করলে একইদিনে প্রধান বিচারপতি এ. এস. এম. সায়েমকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে সংসদ বিলুপ্ত করা হয়।”(উইকিলিক্স)
আসলে আওয়ামীলীগ সরকারের গত ১০ বছরের
শাসনামলে যে অমানবিক হত্যাকান্ড,গুম, খুন, জেল,ফাসি হয়েছে তাকে ছোট করে দেখাবার একটি আবুল ফজলীয় পদ্ধতি হাসানুল হক ইনুরা প্রয়োগ করেন।শেখ হাসিনা ট্যাংকের ওপর উদবাহু নৃত্য করা ইনুকে কখনোই ভুলবে না!!! বিচার, অবিচার ও অতিবিচার!!!
১৯৯৪ সালের ট্রেনে হামলার “কাহিনী” ধরে স্থানীয় আদালত বিএনপির ৯ জনের ফাসির হুকুম দিয়েছে!!লক্ষনীয় যে, আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার এই ট্রেন সফর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম ট্রেন যাত্রা।এমনকি মহাত্ম্বা গান্ধীর ট্রেন ভ্রমনও এত দীর্ঘ ছিল না। ‘৯০ পরবর্তী বিএনপির শাসনামলে ‘৯১-‘৯৬ সালে এই ছিল রাজনৈতিক কালচার।কথিত আছে এই ঘটণা ছিল একটি সেনশেশান তৈরির চেষ্টা।

আওয়ামীলীগ ডান বাম করে ৪ বার ক্ষমতায় এলো।কিন্তু ইতিপূর্বে এসববের কোন বালাই ছিলনা। আওয়ামীলীগ যেভাবে বিএনপির সৃষ্ট বাধা বিপত্তির উল্লেখ করে, এর মাত্র ২ শতাংশ করা হলে এই দলের গোফদার নেতারা জীবনেও ফিরে আসতো না।

মনে রাখা জরুরী যে ক্ষমতার পাদপীঠ থেকে আওয়ামীলীগ যখন বিদায় নেয়,তখন তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর ৫% মানুষ ছিল না।সব জাতীয় দৈনিক দেখতে পারেন,আহমদ ছফা ও বিভিন্ন লেখকের লেখা সাময়িক পত্রে দেখতে পারেন।৪টা বাদে পত্রিকা তো সব ব্যান্ড। সেনাছাউনির গল্প তোলে আওয়ামীলীগ??? জিয়া শৃঙ্খলা ফিরিয়ে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে।সামরিক বাহিনীকে স্থায়ীভাবে ব্যারাকে পাঠিয়েছিল।জিয়া শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন এটাই ঠিক।

কারণ তিনি সামরিক শাসনের সেনাবাহিনী নয়, সার্বভৌমত্বের জন্য প্রয়োজনীয় সেনাবাহিনীর প্রবর্তন করেছিলেন।মোটা ও পাতলা দাগে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত সমাজ ভারতের রিসার্চ ও এনালাইজিং উইং র-এর বানানো তত্ব ফেরী করে বেড়িয়েছে।কিন্তু এই র’ আবার জিয়া হত্যার পরপর এরশাদকে দিয়ে ৯ বছর সেনা শাসন চালিয়ে সামরিক শাসনের বাংলাদেশে পরিনত করেছিল।জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগ সমন্বয় করে এই আন্দোলনে ছিল।এর প্রমান ১৯৮৬ সালের এরশাদের অধীনে নির্বাচন। এই দায় তারা এখনো এরা যৌথভাবেচালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তার ভাইরা যে সামরিক বাহিনীর গর্বিত সদস্য ছিলেন সেটা বেশ রেলিশ করেই বলেন প্রতিটি স্বশস্ত্র বাহিনী দিবসে।এমন কি তার মাছুম ছোট ভাই শেখ রাশেলেরওস্বপ্প ছিল এই বাহিনীর গৌরবান্বিত সদস্য হবার -সেটাও উল্লেখ করেন।বাংলাদেশের যে কোন মানুষই সেটা চাইবে।বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

এর বাইরে তার অন্য ভুমিকা খুব কম।জিয়া সেই চর্চার মধ্যদিয়ে একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করতে চেয়েছিলেন।বেগম জিয়াও সেই ধারণাই পোষন করতেন।এখনো কুখ্যাত খুনী স্বৈরাচারী শাসক এরশাদের মর্যাদা রক্ষা হয় সাবেক প্রসিডেন্ট হিসেবে!! কিন্তু চোখের সামনে জিয়ার মত জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ককে হেয় করা হয়। অবৈধ সরকারের মামলা বৈধ হয়ে যায়।বেগম জিয়াকে ২৪ মাস বন্দী রাখা হয়েছে।মেজিস্ট্রেট কোর্ট যে জামিন দিতে সক্ষম, সেটা আপিলেট ডিভিশন অবধি টানা হয়েছে সময় লম্বা করার জন্য।
বেসিক জিনিসটা হলো খালেদা জিয়ার নামে একটা মিথ্যা মামলা ফখরুদ্দীন- মঈনুদ্দিন – মাসুদুদ্দীন ৩ জুলাই ২০০৮ এ দিয়েছিল । মামলা খালেদা জিয়ার নামে দেয়া হয়েছে,শেখ হাসিনার নামেও দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার মামলা প্রত্যাহার হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ারটা চলছে।সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের মামলা চলার অর্থ এখনো সেই সরকারের ধারাবাহিকতায় দেশ চলছে।আওয়ামীলীগ যদি এই মামলা আর একদিনও চালু রাখে তবে বুঝতে হবে আওয়ামীলীগ সেই সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের প্রেতাত্মা।
কেউ কেউ বলেন আওয়ামীলীগ বৈধতা দিয়েছে সেই সরকারের।এর মানে দাঁড়ায় সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার বৈধ ছিলনা।কারণ বৈধ হলে তার বৈধতা দেবার প্রশ্ন আসবে কেন? কোন অবৈধ সরকারের দেয়া মামলা কিভাবে চলে?

বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর পোশাক পড়ে ক্ষমতায় এসে টিকে থাকার ইতিহাসে এরশাদ, ফখরুদ্দীন- মইন উদ্দীন ইন্ডিয়ার আশির্বাদ নিয়ে চলেছে।এরশাদের পুরো নয় বছর ভারত তাকে সমর্থন দিয়েছে।এমনকি রাষ্ট্রধর্ম বিল এদের পরামর্শেই করা হয়েছিল।এদের কেউই জনপ্রিয় ছিল না।এরশাদ যে তাদের লোক ছিল তার প্রমান ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগ এরশাদের অধীনে “জাতীয় বেঈমান” খেতাব লাভের পরও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।এই পরামর্শ তারা ইন্ডিয়া থেকেই পেয়েছিল।আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সেই একই ঋন ইন্ডিয়ার কথায় পুষিয়ে দিয়েছে।

আর জনসমর্থনহীন সেনাসমর্থিত ২০০৭ এর সরকার এবং এখন অব্দি তারই ধারাবাহিকতার সরকার টিকে আছে ভারতের পরামর্শে। ভারত দায়িত্ব নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপকে এইসব সরকারের জন্য তদবির করেছে।একটা সময় ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ মনে করতো জামায়াতে ইসলামকে সংসদীয় রাজনীতিতে রেখে দিলে তাদের সুবিধা।এই বক্তব্য তারা নিয়মিত দিয়ে এসেছে।এখন আমেরিকা যেহেতু ভারতের চোখে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার সবকিছু দেখে তাই তাদের তত্ব পরিবর্তন হয়েছে।এরা পাকিস্তানকে যেভাবে দেখে সেইভাবেই বাংলাদেশকে দেখতে চায়।আওয়ামীলীগ ছাড়া সকল দল ও মতকে এরা ভারতবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে।
এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলবেন জিয়াউর রহমান কি সামরিক বাহিনীর হাত ধরে এসেছেন?না,এই দায় জিয়াউর রহমানের নয়।বাকশাল আওয়ামীলীগের ভিতরের মন্ত্রীরা মোশতাকের সাথে জোট হয়েছিল।সামরিক শাসন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল দুঃশাসনে যে শুন্যস্থান তৈরি হয়েছিল সেখানে জনপ্রিয় সেনাপ্রধান ছিলেন জিয়াউর রহমান।তিনি সেনাবাহিনীর সামরিকশাসন তত্বের প্রতিভূ ছিলেন না তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর সার্বভৌমত্ব তত্বের প্রতিভূ।

যে কারণে এরশাদের মাধ্যমে সাড়ে তিনবছরের মাথায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।জিয়াউর রহমান যেহেতু রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,একজন গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন তাই তাঁর সাথে অন্যদের তুলনা অবাস্তব।

লেখক
সাবেক ছাত্রনেতা, বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।