পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম পান। যা সুপারির সাথে চিবিয়ে  খাওয়া হয়।অতিথি আপ্যায়ন বা আলোচনার টেবিলে পানের জুড়ি নেই।গ্রাম অঞ্চলে পান না হলে কোন আসরই জমেনা। এক সময় বয়স্করা পান খেলেও এখন বিষয়টি তাদের মধ্য সীমাবদ্ধ নেই৷ সব বয়সের মানুষের মাঝে পান খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে।বর্তমানে বাংলাদেশে শহর থেকে শুরু করে সর্বত্র পানের দোকান রয়েছে।
প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার পান। ব্রিটেনের লন্ডন শহর হচ্ছে দ্বিতীয় বাংলাদেশ।এ শহরের টাওয়ার হ্যামলেটস,ক্যামডেন ও নিউহামে প্রচুর বাংলাদেশিদের বসবাস। এই তিনটি বরা’য় ইংলিশের পর বাংলা ভাষায় কথা বলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের মত লন্ডন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অর্ধশতাধিক  পানের দোকান।প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে শত শত পাউন্ডের পান।কিন্ত বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের ফলে কিছু দিন ধরে দেশটিতে পান আসা বন্ধ রয়েছে।
কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পান আসা বন্ধ হওয়ায় ব্রিটেনে পান সংকট দেখা দেয়। যার ফলে বেকায়দায় পড়েছেন পান কেইফিরা।প্রতিদিন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন পানের জন্য। কিন্ত কোথাও পান না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।এমন পরিস্থিতে বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল)লন্ডন শহরের শেডওয়েল কাচা বাজার নামক দোকানে পান আসার খবর চারদিকে ছাড়িয়ে পড়ে।মুহুর্তের মধ্যে দোকানে মানুষের ভিড় লেগে যায়।করোনা ভাইরাস,লকডাউন কোন কিছুই মানুষকে পান কেনা থেকে আটকাতে পারেনি। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পানের জন্য।

শুধু পানের জন্য সরকারের কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেননি বাঙ্গালীরা।চাহিদার তুলনায় পান কম থাকায় দাম ছিলো একটু বেশী।কিন্ত পান কৈইফিদের কাছে পান পাওয়াটা ছিলো সোনার হরিণের মত।

এ বিষয়ে দোকানে কর্মরত হাবিবুর রহমান বলেন,আজ কিছু পান এসেছিলো, কিন্ত এত মানুষ পান নিতে আসেন যা কল্পনার বাহিরে, সবাইকে পান দেয়া সম্ভব হয়নি।এদিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পান না পেয়ে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।অনেকে আবার ফেসবুকে পান কোথায় পাওয়া যাবে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছেন পরিচিত জনদের কাছে।জয়নাল আবেদীন নামে এক বাংলাদেশি পানের জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছেন।আগামীকাল(শুক্রবার) অনেকে পান দিবেন বলে জানিয়েছেন।