স্পোর্টস ডেস্ক


‘অবশেষে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ জিতে নিয়েছে আফ্রিকা!’- বলিউড কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের এমন টুইট নিয়ে তো পুরো সোরগোল পড়ে গেছে। তাঁর কথার যৌক্তিকতাও নিশ্চয়ই আছে। যেখানে ২৩ সদস্যের বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স ফুটবল দলটিতে ১৬ জনই আফ্রিকান অভিবাস। বিভিন্ন সময়ে তাদের পরিবার ফ্রান্সে এসে বসতি শুরু করে।

এর মধ্যে দিদিয়ের দেশমের স্কোয়াডে ছিল ৭ জন মুসলিম ফুটবলার। মুসলিম বিশ্বের জন্য যা সত্যিই খুশির খবর। এই ৭ ফুটবলারের অনেকেই জ্বলে উঠেছিলের মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। তাদের একজন পল পগবা তো একটি গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই বোধহয় কোনও মুসলিম ফুটবলারের প্রথম গোল।

এছাড়াও গতকাল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে ফ্রান্সের হয়ে পগবা ছাড়াও মুসলিম ফুটবলারদের মধ্যে মাঠে নেমেছিলেন আদিল রমি, গল কান্তে, নাবিল ফকির ও উসমান ডেম্বেলেরা।

ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলে এমন ঘটনা অতীতেও দেখা গেছে। যেখানে আফ্রিকান ও আলজেরিয়ান বংশোদ্ভুত মুসলিম ফুটবলাররা অনেক সময়ই হয়ে উঠেছেন ফরাসিদের কাণ্ডারি।

আরেকটু পেছনে সেমিফাইনালের কথায় আসা যাক। সেখানেও একমাত্র ক্রোয়েশিয়া ছাড়া বাকি তিনটি দলেই (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম) অভিবাসী ফুটবলারদের প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মতো। যার মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যাই বেশি। বেলজিয়ামের মুসলিম ফুটবলার লুকাকু তো রাশিয়া বিশ্বকাপে ৪ গোল করে শুরু থেকেই আলোচলায় ছিলেন।

ফলে ফ্রান্সের এই বিশ্বজয়ের সাফল্য প্রচলিত অর্থে কোনও ইউরোপীয় পরাশক্তির বিজয় নয়; বরং এটি হচ্ছে অভিবাসীদের বিজয়, যারা দেশটিতে অনেকটাই পরবাসী, একঘরে, বর্ণবাদের শিকার। ক্রোয়েশীয় ফুটবলের একজন কর্মকর্তার ভাষায়, তাঁর দেশের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে বহুজাতিক ফ্রান্স।

তুর্কি দৈনিক সাবাহর হিসাবে বিশ্বকাপে ফরাসি দলের হয়ে যাঁরা খেলেছেন, তাঁদের ৭৮ শতাংশই হচ্ছে অভিবাসী। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ফ্রান্স দলেই অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আবার এই অভিবাসীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই মুসলমান।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে চারটি গোলের আত্মঘাতীটি ছাড়া অন্য তিনটির মধ্যে দুটি করেছেন পল পগবা ও এমবাপ্পে। পগবার জনকরা এসেছেন গিনি থেকে, আর এমবাপ্পের মা আলজেরীয় ও বাবা ক্যামেরুনের। পগবা, কন্তেসহ দলে ছয়জন ছিলেন মুসলমান।

অমিতাভ বচ্চনের মন্তব্যের সঙ্গে তাই যোগ করে এটাও বলা যায়- রাশিয়া বিশ্বকাপটা আসলে ফ্রান্সকে এনে দিয়েছে মুসলিম ফুটবলাররা।