51773_albd

সিলেটের বিশ্বনাথে আবুল বাহার নামে এক শিক্ষককে পিটিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম। আবুল বাহার বিশঘরের প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীয়ান পদে থাকলেও সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছেন আহত শিক্ষক আবুল বাহার। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে পেটানোর পর জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রেও স্বাক্ষর নিয়েছেন ওই প্রভাবশালী নেতা। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলাম বিশঘর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ আলীর পুত্র।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ওই বিদ্যালয়ে লাইব্রেরীয়ান পদে যোগদান করেন আবুল বাহার। শিক্ষক সংকটের কারণে বর্তমানে তিনি সহকারী শিক্ষকের দায়িত্বপালন করে আসছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে লাইব্রেরীতে বই রাখা নিয়ে প্রধান শিক্ষক ফারুক ইকবাল ও সহকারী শিক্ষক আবুল বাহারের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষককে মারধর করেন। এনিয়ে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এখবর পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে শিক্ষক আবুল বাহারকে কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  শিক্ষকের কার্যকলাপে আমি তাকে (আবুল বাহারকে) থাপ্পড় একটা মেরেছি। পদত্যাগপত্রের ব্যাপারে তিনি বলেন- সভাপতির অনুমতি নিয়ে অভিভাবক সদস্য কমর উদ্দিনের উপস্থিতিতেই নেয়া হয়েছে বলেও জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার স্মারকলিপি বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।